ইন্টারনেটে কিভাবে আপনার ডাটা সুরক্ষিত রাখবেন? (১০ টি উপায়)

ইন্টারনেটে যে কেউ সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়। যখন আপনি ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন তখন আপনাকে নিজেই নিরাপদ থাকতে হবে, এবং নিজেকে নিরাপদ রাখতে হবে।

ইন্টারনেটে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এই সমস্ত পদ্ধতি অনুসরণ করার মাধ্যমে ইন্টারনেটে আপনার ডাটা সুরক্ষায় রাখতে পারেন।

আজকের আর্টিকেলে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হবে ইন্টারনেটে ডাটা সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু টিপস সম্পর্কে। এই সমস্ত টিপস সম্পর্কে আপনি যদি জেনে নেন, তাহলে ইন্টারনেটে আপনার ডাটা সুরক্ষিত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

ইন্টারনেটে ডাটা সুরক্ষার দিকে নজর কেন দিবেন?

যে কোন ডাটা প্রয়োজনীয় গুরুত্ব বহন করে। যে কারো ডাটা যখন কোন অসৎ ব্যক্তির হাতে চলে যাবে তখন সেই ডাটার ভবিষ্যৎ বিপদের মধ্যে পড়বে। সে ক্ষেত্রে কোন অসৎ ব্যক্তির হাতে যাতে আপনার প্রয়োজনীয়তা ডাটা কিংবা যে কারো ডাটা না যায় সেজন্য ডাটা সুরক্ষার দিকে মনোনিবেশ করতে হয়।

এবং যখন আপনি ডাটা সুরক্ষার দিকে নজর দিবেন তখন আপনার ডাটা সুরক্ষিত থাকার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। এছাড়াও এখানে আলোচিত যে সমস্ত প্রয়োজনীয় পদ্ধতি রয়েছে সেগুলো সম্পর্কে জেনে নিলেও আপনি ডাটা সুরক্ষিত রাখতে পারবেন।

অনলাইনে ডাটা সুরক্ষিত রাখার উপায়

আপনার প্রয়োজনীয় ডাটা অনলাইনে সুরক্ষিত রাখার জন্য বেশ কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন। এবং এ সমস্ত পদ্ধতি অনুসরণ করার মাধ্যমে আপনি পূর্বের তুলনায় নির্দিষ্ট ডাটা সুরক্ষিত রাখতে পারবেন।

পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে সতর্কতা

যখন আপনি ইন্টারনেটে যে কোন একটি একাউন্ট তৈরি করবেন কিংবা যে কোন ডাটা সুরক্ষিত রাখার জন্য পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন সেই সময় আপনাকে পাসওয়ার্ড ব্যবহার করার ক্ষেত্রে বিশেষ সুরক্ষা বলয় তৈরি করতে হবে।

একটি সুরক্ষিত মজবুত পাসওয়ার্ড তৈরি করার জন্য বেশ কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে। সর্বপ্রথম জেনে নেয়া যাক কিভাবে একটি পাসওয়ার্ড কে সুরক্ষিত এবং শক্তিশালী করবেন।

মজবুদ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করার কৌশল:

যখন একটি পাসওয়ার্ড নির্বাচন করবেন, তখন পাসওয়ার্ডে বিভিন্ন অক্ষর সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। সমস্ত কিছুর সমন্বয়ে নির্দিষ্ট পাসওয়ার্ড শক্তিশালী হয়ে যাবে।

ইন্টারনেটে যখন আমরা একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করি তখন প্রায় সবাই এই ভুলটি করে থাকি, আর সেই ভুলটি হলো আমরা প্রতিটি অ্যাকাউন্টের জন্য অনেক সময় একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে থাকি। ভুলেও এই কাজটি করা যাবে না।

এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট একাউন্টের জন্য আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন।

এছাড়াও আপনি যে পাসওয়ার্ড নির্বাচন করেছেন সেই পাসওয়ার্ড কতটা শক্তিশালী কিংবা একজন হ্যাকারকে সর্ব মোট কত সময় ব্যয় করতে হবে আপনার ব্যবহৃত পাসওয়ার্ড ক্র্যাক করার জন্য সেটি জেনে নেয়ার জন্য নিচের ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে পারেন।

Password Secure

মজবুদ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করার কৌশল
মজবুদ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করার কৌশল

উপরে উল্লেখিত ভিজিট করার পরে আপনি যেই পাসওয়ার্ড নির্বাচন করেছেন সেই পাসওয়ার্ড নির্দিষ্ট বক্সে বসিয়ে দিন, তাহলে আপনি দেখতে পারবেন এই পাসওয়ার্ড কতটা শক্তিশালী।

দুই স্তরে নিরাপত্তা ব্যবহার করা

যখন আপনি অ্যাকাউন্ট তৈরি করবেন, তখন বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে দুই স্তরে নিরাপত্তা চালু করার অপশন বিদ্যমান থাকে। দুই স্তরে নিরাপত্তা যখন একটি অ্যাকাউন্টটি চালু করে থাকে তখন সেই একাউন্ট পূর্বের তুলনায় আরো বেশি নিরাপদ হয়ে ওঠে।

এক্ষেত্রে, যখন যে কেউ নির্দিষ্ট একাউন্টে দুই স্তরের নিরাপত্তা চালু করবেন, তখন একাউন্টে লগইন করার জন্য নির্দিষ্ট দুই স্তরের সুরক্ষা পাড়ি দিয়ে তারপর একাউন্টে লগইন করতে হবে৷

সেজন্য একাউন্টে সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য এটি চালু করুন।

অনিরাপদ ওয়েবসাইট এড়িয়ে চলুন

ইন্টারনেটে যেভাবে নিরাপদ ওয়েবসাইট রয়েছে ঠিক একইরকমভাবে অনিরাপদ ওয়েবসাইট বিদ্যমান রয়েছে। সেজন্য আপনাকে সর্বদা অনিরাপদ ওয়েবসাইট এড়িয়ে চলতে হবে কারণ ও নিরাপদ ওয়েব সাইটের মাধ্যমে আপনার নির্দিষ্ট ডাটা চুরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

একটি সহজ এবং বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণ করে ও নিরাপদ ওয়েবসাইট এড়িয়ে চলতে পারেন। আর এই দুটি পদ্ধতি হলো:

  • শুধুমাত্র “HTTPS” প্রোটোকল যুক্ত ওয়েবসাইটে ব্রাউজ করুন।
  • সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক করা এড়িয়ে চলুন।

উপরে বর্ণিত দুটি পদ্ধতি অনুসরণ করে অনিরাপদ ওয়েবসাইট এড়িয়ে চলতে পারবেন।

পাবলিক Wi-Fi ব্যবহারে সতর্ক থাকুন

এটি জানলে অবাক হবেন যে পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করার মাধ্যমেও আপনার ডাটা চুরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করার ক্ষেত্রে আপনাকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

যখন আপনি পাবলিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করবেন, তখন পাবলিক নেটওয়ার্ক প্রটোকল কিংবা ওয়াইফাই ব্যবহার করার সময় বিভিন্ন রকমের সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন।

এছাড়াও সুরক্ষিত থাকার জন্য ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করার সময় ভিপিএন ব্যবহার করতে পারেন। এতে আপনার ডাটা সংরক্ষিত থাকার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার পূর্বে

ইন্টারনেটে যে কোন প্লাটফর্মে যখন আপনি ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করেন তখন সেই প্ল্যাটফর্মের যে ডাটাবেজ রয়েছে, সেখানে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য সেইভ হয়ে যায়।

সে ক্ষেত্রে যে কোন প্লাটফর্মে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার পূর্বে দুইবার চিন্তা করা উচিত। কারণ আপনি এখানে যেই তথ্য শেয়ার করছেন সেই তথ্য, প্ল্যাটফর্মে কতটা সুরক্ষিত থাকবে কিংবা আপনার তথ্যের সাথে তারা কি রকমের ব্যবহার করতে পারে সেই সম্পর্কে সচেষ্ট থাকা উচিত।

কারণ আপনি যদি ভুল প্লাটফর্মে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করেন তাহলে সেটি আপনার তত্ত্বের জন্য ও নিরাপদ। এবং একই সাথে যেকোন সোশ্যাল কোন মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।

এবং একই সাথে অপরিচিত ব্যক্তিদের সাথে তথ্য শেয়ার করার ব্যাপারেও সতর্ক থাকা উচিত।

ফিশিং লিঙ্ক থেকে সতর্ক থাকুন

আজকের এই দুনিয়ায় ফিশিং লিংক সম্পর্কে জানেন না এরকম ব্যক্তি খুবই কম রয়েছেন। ফিলিশ লিংক হল এরকম কিছু লিংক, যে সমস্ত লিংকে আপনাকে প্রবেশ করিয়ে আপনার তথ্য চুরি করা হবে।

এ সমস্ত লিংক যখন আপনাকে প্রেরণ করা হবে তখন আপনাকে বিভিন্ন লোভনীয় অফার দেয়া হবে। এবং এ সমস্ত লোভনীয় অফারে পা দিয়ে আপনি যখন এই সমস্ত লিংকে প্রবেশ করবেন এবং নির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে দিবেন, তখনই তারা সেই তথ্য নিয়ে নিবে।

এই সমস্ত তথ্যের মধ্যে থেকে অন্যতম কিছু তথ্য হতে পারে, আপনার নির্দিষ্ট ফেসবুক একাউন্টের আইডি, পাসওয়ার্ড। আপনার ব্যক্তিগত তথ্য ইত্যাদি। এছাড়াও বিভিন্ন সার্ভে করার সময় আপনি যখন কোন একটি প্লাটফর্মে তথ্য দেন, সেই সমস্ত তথ্য সম্পর্কে আপনাকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

এছাড়াও, যে কোন সন্দেহজনক ইমেইল কিংবা মেসেজ না খোলাই ভালো। এবং কোন লিংক প্রোফাইল ডাউনলোড করার আগে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হয় তারপরে ডাউনলোড বাটনে চাপ দিন।

রেগুলার একাউন্টে পাসওয়ার্ড আপডেট করুন

কোন একটি অ্যাকাউন্টে যখন আপনি একটি পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন, তারপরে নির্দিষ্ট সময় পড়ে সেই অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন। একটি পাসওয়ার্ড তৈরি করার অন্তত তিন মাস পরে নতুন পাসওয়ার্ড আপডেট করুন।

নতুন পাসওয়ার্ড আপডেট করার মাধ্যমে আপনার একাউন্টে সুরক্ষা বৃদ্ধি পায়। এবং যখনই আপনার নির্দিষ্ট একাউন্টের সুরক্ষা বৃদ্ধি পাবে তখন সেই একাউন্টের ডাটা সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।

ডিভাইসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

এছাড়াও আপনার নির্দিষ্ট ডিভাইসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একটি ডিভাইসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মাথায় রাখা যেতে পারে:

  • ডিভাইসে স্ক্রিন লক, পাসওয়ার্ড বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট চালু করুন।
  • ডিভাইস হারিয়ে গেলে তা ট্র্যাক করার ব্যবস্থা রাখুন।

আপনি যদি আপনার ডাটা সুরক্ষিত রাখতে চান তাহলে ডাটা সুরক্ষিত রাখার জন্য যে সমস্ত পদক্ষেপ অনুসরণ করা যেতে পারে সেগুলো উপরে তুলে ধরা হয়েছে।

উপরে উল্লেখিত পদ্ধতি অনুসরণ করুন এবং আপনার ডাটা সুরক্ষিত রাখুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top