আমাদের মধ্যে যারা ডায়াবেটিসের রোগী রয়েছেন তাদের খাদ্যাভাসে বেশ কিছু পরিবর্তন আনতে হয়। বেশ কিছু খাবারের প্রতি তাদের নিষেধ যেমন থাকে, একই রকম ভাবে বেশ কিছু খাবার খাওয়ার জন্য তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করা হয়।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খাবারের তালিকা এখান থেকে জেনে নিতে পারবেন। ডায়াবেটিস রোগীরা কি রকমের খাবার খেতে পারবেন এবং একই সাথে কি কি রকমের খাবার তাদের বর্জন করা উচিত সেই সম্পর্কিত তথ্য এখানে জেনে নিতে পারবেন।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খাবারের তালিকা
আপনি যদি একজন ডায়াবেটিসের রোগী হয়ে থাকেন কিংবা আপনার আশে পাশে কেউ যদি ডায়াবেটিসের রোগী হয়ে থাকে তাহলে সেই ব্যক্তির খাদ্যাভাসে কিছু পরিবর্তন আনা বাঞ্ছনীয়।
একজন ডায়াবেটিসের রোগী হিসেবে যে সমস্ত খাবার খাওয়া যেতে পারে, এবং একই সাথে যে সমস্ত খাবার বর্জন করা প্রয়োজন সেগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সঠিক ডায়েট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিম্নলিখিত খাবারগুলো উপকারী হতে পারে।
খাবার খাওয়ার যে রুটিন রয়েছে সেই রুটিন অনুযায়ী আমরা ডায়াবেটিস রোগীদের যেই খাদ্য তালিকা রয়েছে সেটি সাজিয়েছে যাতে করে আপনারা সহজেই এটি সংগ্রহ করে নিতে পারেন এবং সহজেই যাতে এটি বোধগম্য হয়।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সঠিক ডায়েট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিম্নলিখিত খাবারগুলো উপকারী হতে পারে:
সকালের নাস্তা
একজন ডায়াবেটিসের রোগী সকালের নাস্তায়, নিয়ন্ত্রিত কিছু খাদ্য তালিকা রাখতে পারেন। সকালের নাস্তার খাদ্য তালিকায় এ সমস্ত খাদ্য আঘা যেতে পারে সেগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- ওটস: এটি কোমল জল দিয়ে তৈরি করা যেতে পারে। এবং অবশ্যই কোনো রকমের চিনি ব্যবহার করা চলবে না।
- ডিম: ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সকালে নাস্তা ডিম রাখা যেতে পারে। আপনি চাইলে সিদ্ধ করে সেই ডিমটি খাওয়াতে পারেন কিংবা স্বাভাবিকভাবে রান্না করে সেটি খাওয়াতে পারেন।
- আটা কিংবা রুটি জাতীয় খাবার: সকালের নাস্তায় আটা রুটি জাতীয় খাবার রাখা যেতে পারে। তবে বেশি ভাজা পুরা এড়িয়ে চলতে হবে।
- লেবু জাতীয় পানীয়: লেবুজাতিয় পানীয় রাখা যেতে পারে। এটি মূলত শরীরে ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
মৌলিকভাবেই উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলো সকালে নাস্তা রাখা যেতে পারে।
দুপুরের খাবার
যখন একজন ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগী দুপুরের খাবার খাবেন তখনও সেই ব্যক্তির ডায়াট মেইনটেইন করতে হবে। সকালের খাবার হালকা পরিমাণে খেলেও দুপুরের খাবার একটু ভারি খাবার খাওয়া প্রয়োজন হয়।

এরকম কিছু খাবার খাওয়ার প্রয়োজন হয় যা খেলে সাধারণত পেট ভরে। এবং এরই ধারাবাহিকতায় দুপুরের খাবারের যে সমস্ত খাবার রাখা যেতে পারে সেগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
বাদামি চালের ভাত অথবা রুটি: দুপুরের খাবারে বাদামি চালের ভাত খেতে পারেন কিংবা আপনি চাইলে আটার রুটি খেতে পারেন। এটি আপনার শক্তি যোগাবে এবং বিপরীতে পুষ্টি যোগাবে।
মাছ: এছাড়াও দুপুরের খাবারে ভাতের সাথে মাছ রাখা যেতে পারে। তবে মাছ রান্না করার ক্ষেত্রে অবশ্যই কম তেল ব্যবহার করুন। অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করে শরীরের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে।
বিভিন্ন রকমের সবজি: শরীরের স্বাভাবিক ওজন এবং একই সাথে শরীরের স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখার জন্য সবচেয়ে খুবই প্রয়োজনীয় একটি খাদ্য উপাদান। একজন ডায়াবেটিসের রোগী সবজি হিসেবে করলা, শিম,বেগুন, ফুলকপি মত সবজি খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন।
এছাড়াও দুপুরের খাবারের মুসুরির ডাল বা ছোলার ডাল রাখা যেতে পারে। এবং একই সাথে দই রাখা যেতে পারে। তবে দই রাখার ক্ষেত্রে অবশ্যই এরকম দই নির্বাচন করে নিবেন, যাতে চিনি বিদ্যমান থাকবে না।
বিকেলের নাস্তা
যখন একজন ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তি বিকালের নাস্তা করবেন, তখন সেই ব্যক্তি বিকালের নাস্তায় যে সমস্ত খাদ্য তালিকা রাখতে পারেন সেগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- বাদাম (আমন্ড, আখরোট, কাজু – অল্প পরিমাণে)
- ফলের স্যালাড (আপেল, পেয়ারা, জাম, স্ট্রবেরি – চিনি ছাড়া)।
- চিড়া বা মুড়ি (টমেটো বা পেঁয়াজ দিয়ে মিশিয়ে)।
এখানে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি মাথা রাখা প্রয়োজন সেটি হল যে কোন খাদ্য তালিকা আপনি রাখেন না কেন, সেখানে যদি চিনি র পরিমাণ থাকে তাহলে সেটি কমিয়ে ফেলতে হবে কিংবা চিনের পরিমাণ বাদ দিতে হবে।
রাতের খাবার
যে কারো জন্যই রাতের খাবার হিসেবে হালকা খাবার রাখা প্রয়োজন। রাতে কোন রকমের ভারি খাবার খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। একজন ডায়াবেটিসের রোগী হিসেবে রাতের খাদ্য তালিকায় যে সমস্ত খাবার রাখতে পারেন সেগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
সর্বপ্রথম যেই খাবারটি রাখা যেতে পারে সেটি হল, আটার রুটি বা মিশ্রিত দানার রুটি। এটি আপনার শরীরের সবকিছু কিভাবে এবং পুষ্টি যোগান দিবে।
এছাড়া হালকা খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে মুরগি বা মাছের হালকা ঝোল ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে। এবং একই সাথে এর সাথে সবজি সম্পৃক্ত করা যেতে পারে।
যদি চিনি ছাড়া দই পাওয়া যায়, তাহলে সেই চিনি ছাড়া টক দই খাওয়া যেতে পারে।
উপরে যে খাদ্যের তালিকা তুলে ধরা হয়েছে, সেই খাদ্য তালিকা অনুকরণ করা যেতে পারে। এছাড়াও এর চেয়ে আরো ভালো ডায়েট প্ল্যান পাওয়ার জন্য কোন একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া যেতে পারে।
খাবারে এড়িয়ে চলুন
একজন ডাইবেটিস রোগী যখন খাবার খাবেন কিংবা সেই রোগীর খাদ্য তালিকা যখন কোন খাবার থাকবে তখন বেশ কিছু খাবার তাকে এড়িয়ে চলতে হবে। একজন ডায়াবেটিস রোগীর যে সমস্ত খাবার এড়িয়ে চলা বাঞ্ছনীয় সেগুলো হল:

- যেকোনো রকমের চিনি এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার।
- সাদা চালের ভাত।
- অতিরিক্ত ভাজাপুড়া খাবার খাওয়া।
- ফাস্টফুড এবং প্রসেস ফুড।
- কোল্ড ড্রিংস ইত্যাদি।
উপরে উল্লেখিত খাবার গুলো এড়িয়ে চলার প্রয়োজন। এছাড়াও শরীরকে সুস্থ রাখতে এবং একই সাথে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা প্রয়োজন।
এবং একই সাথে ছোট ছোট পরিমাণে খাবার খাওয়া প্রয়োজন। তবে খাবার খাবার খেতে নিয়মিত বিরতি দিতে হবে।
একজন ডায়াবেটিস রোগীর খাবার তালিকা কিরকম হতে পারে এই সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উপরে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও এই সম্পর্কে কোন রকমের প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার থাকলে সেটি আমাদেরকে জানাতে পারেন৷
অসংখ্য ধন্যবাদ আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত দেখার জন্য।
Read: সরকারি চাকরির প্রস্তুতির সঠিক উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত