ভ্রমণ করতে পছন্দ করে না এরকম মানুষ খুবই কম পাওয়া যাবে। এবং এই ভ্রমন কার্য আপনি যদি বাংলাদেশের সম্পন্ন করতে চান তাহলে বাংলাদেশে ভ্রমন করার জন্য বেশ কিছু আকর্ষণীয় এবং মনোমুগ্ধকর জায়গায় বিদ্যমান রয়েছে৷
ভ্রমন করার জন্য বাংলাদেশের জনপ্রিয় কিছু জায়গা এখানে তুলে ধরা হবে। যে সমস্ত জায়গায় আপনি চাইলে ভ্রমন করতে পারবেন। এসমস্ত জায়গায় শুধুই যে আপনি প্রমাণ করবেন সেরকমটা কিন্তু নয় এখানে প্রতিনিয়ত দেশি-বিদেশি পর্যটক ভীড় জমান।
বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ কিছু পর্যটন জায়গা
বাংলাদেশে প্রচুর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক স্থানের সমারোহ বিদ্যমান রয়েছে। যেখানে ভ্রমন করার জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিভিন্ন মানুষজন এসে ভিড় জমান।
বাংলাদেশের প্রমাণ করার জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং মনমুগ্ধকর পর্যটন স্পট রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে থেকে উল্লেখযোগ্য কিছু পর্যটন যায়গা নিচে তুলে ধরা হলো:
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত
আপনি কি জানেন পুরো পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কোনটি? কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। চট্টগ্রামে কক্সবাজার অবস্থিত, বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত।
যা প্রায় ১২০ কিলোমিটার লম্বা৷ এছাড়াও এই সমুদ্র সৈকত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন এবং সূর্যাস্ত ও সুর্যোদয় দেখার জন্য এটি একটি অসাধারণ জায়গা। যে বা যারা ভ্রমণ পিপাসু এবং ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য একটি অন্যতম জায়গা হতে পারে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত।

আপনি যদি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে যেতে চান তাহলে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সেই স্থানে যাওয়ার ক্ষেত্রে ট্রেন ব্যবহার করতে পারেন। ট্রেন ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনি যদি এই জায়গায় যান তাহলে সবচেয়ে স্বল্প সময়ে যাওয়ার নিশ্চয়তা পাবেন।
এছাড়াও বাংলাদেশে অন্যতম নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা হচ্ছে রেলওয়ে ব্যবস্থা। সেজন্য নিরাপত্তার কথা চিন্তা করলেও আপনি রেলওয়ে ব্যবহার করার মাধ্যমে সেখানে যেতে পারেন। তবে আপনি যদি বিমান যুগে সেখানে যেতে চান তাহলেও সেটি পারবেন।
মোটকথা হলো, আপনার বাজেট এবং একই সাথে আপনি কিসে যেতে সবচেয়ে বেশি আনন্দ উপভোগ করবেন সেটা উপর নির্ভর করে আপনি আপনার যাওয়ার রাস্তা বের করতে পারেন।
সেন্ট মার্টিন দ্বীপ
আপনি যদি নীল পানি দেখতে পছন্দ করেন, এছাড়াও সাগরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান তাহলে অন্যতম একটি পর্যটন জায়গা হচ্ছে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ। এটি বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত একটি প্রবাল দ্বীপ।

এই দ্বীপে ভ্রমন করার মাধ্যমে আপনি সমুদ্রের ঐশ্বরিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। এবং একই সাথে আপনি যদি সমুদ্রের সাঁতার কাটতে পছন্দ করেন সেক্ষেত্রে সেখানে গিয়ে সমুদ্র সাঁতার কাটতে পারবেন। যদিও এটা অনেকের জন্য যদি ঝুকিপূর্ণ, এবং এই কাজটি করার ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে নিবেন।
সুন্দরবন
বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন হলো সুন্দরবন। সুন্দরবনের অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং একই সাথে সেখানে থাকা রয়েল বেঙ্গল টাইগার আপনাকে আকৃষ্ট করবে।
পৃথিবীতে যে সমস্ত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত ম্যানগ্রোভ বন রয়েছে সেটির মধ্য থেকে অন্যতম ম্যানগ্রোভবন হল সুন্দরবন। সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে অসংখ্য ছোট ছোট নদী-নালা, যেগুলো সুন্দরবনের সৌন্দর্য আরো বেশি বৃদ্ধি করেছে।

সুন্দরবনের ভ্রমন করার ক্ষেত্রে আপনি চাইলে একজন গাইড সংগ্রহ করতে পারেন। যার মাধ্যমে আপনি নিরাপদ জায়গায় গুলো বহন করতে পারবেন। এছাড়াও এখানে ভ্রমণ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই কয়েকজনের একটি টিম করে এখানে গ্রহণ করতে পারেন।
সাজেক ভ্যালি, রাঙ্গামাটি
আপনি যদি একজন প্রকৃতিপ্রেমী হয়ে থাকেন তাহলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে লীলাভুমি সাজেক ভ্যালি রাঙ্গামাটি যেতে পারেন। মেঘে ঘেরা পাহাড়ি গ্রাম সাজেক, যা প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

এখানে গিয়ে আপনি যদি এক মুহূর্ত কাটান, তাহলে সেটি আপনার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় একটি মুহূর্ত হবে। এছাড়াও ভ্রমণপিপাসুদের জন্য একটি অন্যতম জায়গা হতে পারে সাজেক ভ্যালি।
এখানে বিভিন্ন রিসোর্ট রয়েছে, যাতে আপনি রাত্রি যাপন করতে পারবেন।
জাফলং, সিলেট
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত যে সমস্ত শহর রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে থেকে অন্যতম হলো সিলেট। এবং সিলেটে মধ্যে অবস্থিত রয়েছে অন্যতম একটি পর্যটন স্পট জাফলং।

পাহাড়, নদী এবং পাথরের সৌন্দর্যে ভরপুর একটি স্থান। যা যে কাউকে মুগ্ধ করার জন্য যথেষ্ট। পাথরের সৌন্দর্য দেখতে যারা পছন্দ করেন এবং একই সাথে পাহাড়, নদী মিশ্রণে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত পার করতে চাইলে জাফলং সিলেটে ভ্রমণ করা যেতে পারে।
পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, নওগাঁ
ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃত একটি ঐতিহাসিক জায়গা হল পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার। পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার মূলত নওগাঁ জেলায় অবস্থিত। ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃত করা একটি জায়গা সেজন্য আপনি বুঝতে পারছেন এটি কতটা আকর্ষণীয় হতে পারে।

একজন পর্যটক প্রেমী ব্যক্তির জন্য এটি একটি অসাধারণ জায়গা হতে পারে। এছাড়া আপনি যদি বিদেশী কিংবা বাংলাদেশ হয়ে থাকেন এবং বাংলাদেশের ভ্রমন করার জন্য একটি ঐতিহাসিক জায়গার অনুসন্ধান করেন তাহলে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার নওগাঁ আপনার জন্য উপযুক্ত জায়গা হতে পারে।
শাহজালাল মাজার ও রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট, সিলেট
শাহজালাল মাজার ধর্মীয় দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। যে সমস্ত ধর্মের প্রেমিক ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন এবং যারা ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত শাহজালাল মাজার পর্যবেক্ষণ করতে চান তারাই এই জায়গায় আসতে পারেন।
এছাড়াও আপনি জানলে অবাক হবেন যে বাংলাদেশে একমাত্র মিঠা পানির জলাবণ রয়েছে শুধুমাত্র একটি জায়গায়৷ আর সেটি হল রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট বাংলাদেশে একমাত্র মিঠা পানির জলাবন। যা পর্যটকদের জন্য অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হতে পারে।

সেজন্য একজন পর্যটক প্রেমিক হিসেবে এই দুইটি জায়গায় ভ্রমণ করা যেতে পারে। মূলত এই দুটি সিলেটে অবস্থিত।
বাংলাদেশ পর্যটকদের জন্য বিখ্যাত যে সমস্ত জায়গা রয়েছে সেগুলোর মধ্যে থেকে উল্লেখযোগ্য কিছু জায়গার কথা উপরে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও আরো অনেক ঐতিহাসিক ও নান্দনিক জায়গা বাংলাদেশি বিদ্যমান রয়েছে, যেখানে একজন পর্যটক হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে।

ঐতিহাসিক জায়গায় হিসেবে এবং পর্যটন করার জন্য যে সমস্ত অন্যতম আরো কিছু জায়গা বিদ্যমান রয়েছে সেগুলো হল, রাঙামাটি কাপ্তাই লেক, মহাস্থানগড়, বগুড়া, বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চন্দ্রদ্বীপ, ভোলা ইত্যাদি।
এখানে থাকা প্রত্যেকটি জায়গার এক একটি ইউনিক বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান রয়েছে। এ সমস্ত জায়গায় একজন পর্যটন প্রেমীর জন্য আদর্শ জায়গা হতে পারে।