ব্যাংকিং সেক্টরে ক্যারিয়ার: সুযোগ এবং প্রস্তুতি সম্পর্কে সকল তথ্য

আপনি যদি ব্যাংকিং সেক্টরে আপনার ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাহলে ব্যাংকিং সেক্টরে একটি ভালো এবং সুবিধার জন্য ক্যারিয়ার করার জন্য আপনাকে বেশি কিছু বিষয়ে ধারণা অর্জন করতে হবে।

যখন থেকে আপনি এই চিন্তা ভাবনা করেছেন তখন থেকে আপনাকে, বেশ কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে এবং এ সমস্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে আপনাকে আগাতে হবে।

আজকের এই আর্টিকেলে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হবে ব্যাংকিং এর জন্য আপনাকে যে সমস্ত বিষয়ে দিতে হবে এবং কিভাবে আপনি চাইলে ব্যাংকিং সেক্টরে একটি সুবিধা জনক ক্যারিয়ার করতে পারবেন, সেই সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য।

ব্যাংকিং জগতে কি কি রকমের সুযোগ রয়েছে?

আপনি যখন আপনার, জীবনে চলার পাতেও হিসেবে ব্যাংকিং ক্যারিয়ার কেন নির্বাচন করে নিতে হবে? সহজ ভাষায় এ ক্যারিয়ারে কি কি রকমের সুযোগ সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে, সেগুলো সম্পর্কে সর্বপ্রথম এখানে প্রয়োজন।

ব্যাংকিং সেক্টর একটি দ্রুত বর্ধনশীল ক্ষেত্র। যেখানে কর্মসংস্থানের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। এটি একটি স্থিতিশীল এবং মর্যাদাপূর্ণ ক্যারিয়ার, যা ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক জড়িত।

কর্মস্থানের সুযোগ হিসেবে যে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা একজন ব্যাংকিং ক্যারিয়ার প্রত্যাশী পেতে পারেন, সেগুলোর মধ্যে থেকে উল্লেখযোগ্য কিছু নিচে তুলে ধরা হলো:

সরকারী ও বেসরকারি ব্যাংক

সর্বপ্রথম আপনার যে টার্গেট থাকা প্রয়োজন সেটি হল, সরকারি যে সমস্ত ব্যাংক রয়েছে সে সমস্ত ব্যাংক টার্গেট করা। বাংলাদেশের সরকারি ব্যাংক হিসেবে বেশ কিছু ব্যাংক বিদ্যমান রয়েছে যেগুলোতে চাকরি সুযোগ রয়েছে।

সেজন্য আপনার অন্যতম টার্গেট হিসাবে বাংলাদেশ এর সরকারি ব্যাংকগুলোকে কথা মাথায় রাখা উচিত।

বাংলাদেশের যে সমস্ত সরকারি ব্যাংক রয়েছে, সে সমস্ত সরকারি ব্যাংকের মধ্যে থেকে অন্যতম কিছু ব্যাংক হল; বাংলাদেশ ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ইত্যাদি। এবং এই সমস্ত ব্যাংকে প্রায় প্রতিবছর নিয়োগের মাধ্যমে সক্ষম জনবল নিয়োগ দান করা হয়।

সেজন্য আপনার প্রস্তুতি যদি ভালো থাকে এবং আপনার লক্ষ্য যদি অনর থাকে তাহলে আপনি চাইলে এই সুযোগ নিতে পারেন।

বাংলাদেশের বেসরকারি ব্যাংক

এছাড়াও বাংলাদেশী প্রায় অর্ধ শতকের উপরে বেসরকারি ব্যাংক রয়েছে। যে সমস্ত ব্যাংকগুলো সময় বেঁধে চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে।

এছাড়াও সরকারি ব্যাংকে চাকরি নেয়ার চেয়ে বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি নেয়া তুলনামূলকভাবে কম কষ্টকর। এছাড়াও বাংলাদেশে বেসরকারি ব্যাংকের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ার কারণে সেখানে প্রতিযোগিতা তুলনামূলক কিছুটা কম। তাও, একেবারে অবহেলা করার মত নয়।

সেজন্য, ব্যাংকিং সেক্টরে চাকরি করার ক্ষেত্রে সরকারি এবং বেসরকারি ব্যাংক উভয় নির্বাচন করা উচিত এবং তারপরে নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী যে কোন একটি জায়গায় শিফট হয়ে নেয়া যেতে পারে।

বিভিন্ন রকমের পদ

খুবই স্বাভাবিকভাবে আপনি যখনই কোন একটি সেক্টরকে আপনার ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিতে চাইবেন, তখন আপনাকে এই সেক্টরে কি কি রকমের পদের চাকরি নেয়া যাবে সেই সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে হয়।

একই রকম ভাবে আপনি যদি ব্যাংকিং সেক্টরে নিজের একটি জায়গা তৈরি করে নিতে চান, তাহলে আপনাকে ব্যাংকিং সেক্টরের যে সমস্ত পদ আছে, সেগুলো সম্পর্কে অনুসন্ধান চালিয়ে যেতে হবে।

ব্যাংকিং কে কে হিসেবে নির্বাচন করার ক্ষেত্রে যে সমস্ত পদ রয়েছে সেগুলো হলো:

প্রবেশনারি অফিসার (PO): যে বা যারা নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত হতে চান, কিংবা যারা নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন, তাদের জন্য প্রধান পদ হল প্রবেশনারি অফিসার।

বিষয়টা এরকম যে আপনি যখনই নতুন ইন্টার্ন কিংবা চাকরি নিবেন, তখন আপনি এই পদে অধিষ্ঠ হবেন। এবং তারপরে ধীরে ধীরে আপনার যোগ্যতা অনুযায়ী আপনি উপরের দিকে আগাতে থাকবেন।

ক্যাশ অফিসার: এই পদের যে অফিসার রয়েছেন সেই অফিসার গ্রাহকের কাছ থেকে নগদ অর্থ লেনদেন করে থাকেন, এবং সেগুলো ব্যাংকে জমা রাখা এবং একই সাথে গ্রাহকের কাছে ফেরত দেয়ার কাজ তিনি করে থাকেন।

ক্রেডিট অ্যানালিস্ট: যখন কোন আবেদনকারী ব্যাংক থেকে লোন কিংবা ঋণ নেয়ার ইচ্ছা পোষণ করবে তখন সেই আবেদনকারীর আবেদন কে ভালোভাবে যাচাই করা এবং তাকে লোন দেয়া যাবে কিনা, সেটি ভালোভাবে এনালাইসিস করার কাজ মূলত ক্রেডিট অ্যানালিস্ট করে থাকেন।

আপনি যদি এই পথে চাকরি নেন তাহলে আপনার কাজ তুলনামূলকভাবে দক্ষতা ভিত্তিক হবে। এবং আপনি এনালাইসিস করতে কতটা অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সেটির উপর নির্ভর করে আপনাকে এই চাকরি দেয়া হতে পারে।

রিলেশনশিপ ম্যানেজার: যখনই কোন একজন গ্রাহক ব্যাংকে আসবে তখন সেই গ্রাহককে ভালোভাবে ম্যানেজ করে এবং গ্রাহককে ভালোভাবে উদ্বুদ্ধ করার কাজ মূলত রিলেশনশিপ ম্যানেজার করে থাকেন।

এই পদে চাকরি নেয়ার জন্য অবশ্যই ভালো কমিউনিকেশন স্কিল এবং মানুষের সাথে মিশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কারণ আপনি তখনই কেউ একজনকে মানিয়ে নিতে পারবেন, যখন আপনি তার সাথে মানিয়ে নিতে পারবেন।

ফরেক্স ট্রেডার: বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক লেনদেন এবং মুদ্রা তো তাদেরকে বিষয়ক সমস্ত কাজগুলো এই ব্যক্তি করে থাকবেন। কিংবা এই পদে যে সমস্ত ব্যক্তিবর্গ করেছেন তারা কাজগুলো করে থাকবেন।

আইটি ও ডিজিটাল ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞ: একজন ভালো অভিজ্ঞ সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ যে ব্যক্তি নিরাপত্তা জনিত বিষয়ে তুলনামূলক অনেক বেশি ধারণা রাখেন, সেই ব্যক্তি এই পদে অধিষ্ঠিত হবেন।

এই ব্যক্তির প্রধান কাজ হবে ব্যাংকিং সেক্টরে বিভিন্ন রকমের সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা।

ব্যাংকিং ক্যারিয়ারের জন্য প্রস্তুতি কিভাবে নিবেন?

উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলো যখন আপনি জেনে নিয়েছেন তারপরে আপনি হয়তো এবার ব্যাংকিংকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেচে দিতে প্রস্তুত। আপনি যদি এখানে একটি ক্যারিয়ার করতে চান তাহলে আপনাকে যে সমস্ত যোগ্যতা অর্জন করতে হবে কিনা বাজেভাবে আপনি ক্যারিয়ার করতে পারবেন সেটি নিচে তুলে ধরা হলো:

শিক্ষাগত যোগ্যতা

যেকোনো চাকরি নেয়ার ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই শিক্ষাগতভাবে যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। বিশেষভাবে আপনি যখন ব্যাংকিং সেক্টরে নিজেকে ক্যারিয়ার করার ইচ্ছে প্রকাশ করবেন, তখন আপনাকে ব্যাংকিং সম্পর্কিত যে সমস্ত বিষয় রয়েছে সে সমস্ত বিষয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।

এই সেক্টরে চাকরি নেয়ার জন্য আপনাকে, ব্যাংকিং, ফাইন্যান্স, অ্যাকাউন্টিং, অর্থনীতি, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, আইটি বা গণিতের উপর স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করতে হবে।

এছাড়া আপনি যদি বাড়তি সুবিধা পেতে চান তাহলে, এমবিএ, সিএ (Chartered Accountant), সিএফএ (Chartered Financial Analyst), ডিপ্লোমা ইন ব্যাংকিং ইত্যাদি থাকতে হবে।

এটি হল আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা। তবে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে আপনার রেজাল্ট যদি ভালো থাকে এবং সবগুলো রেজাল্ট যদি ফাস্ট ক্লাস থাকে তাহলে আপনি বেশি প্রাধান্য পাবেন। অনেক ক্ষেত্রে, এডুকেশন লাইফে কম মার্ক পাওয়া ব্যক্তি ও বেশি মার্ক পাওয়া ব্যক্তির চেয়ে এগিয়ে যেতে পারেন।

মোট কথা হলো, আপনার এনালাইসিস করার ক্ষমতা এবং একই সাথে যোগ্যতার উপরে ভিত্তি করে আপনাকে চাকরি দেয়া হবে।

পরীক্ষার প্রস্তুতি

সরকারি এবং বেসরকারি ব্যাংক বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা দিয়ে তাদের ব্যাংকের কর্মী নিয়োগ দিয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে আপনি যদি ব্যাংকিং সেক্টরে ক্যারিয়ার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তাহলে ব্যাংকিং সেক্টরে ক্যারিয়ার করার জন্য আপনাকে বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে।

এবং যখনই আপনি নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবেন, তারপরে আপনি ব্যাংকিং সেট করে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগটি পেতে পারেন।

সাধারণত বাংলাদেশের কোন ব্যাংক যখন নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে থাকে, তখন এই নিয়োগ পরীক্ষার মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ে থাকে। এবং সেগুলো হল:

  • গাণিতিক দক্ষতা ও সংখ্যা সংক্রান্ত যুক্তি (Quantitative Aptitude)
  • ইংরেজি ভাষা ও ব্যাকরণ।
  • সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী)
  • কম্পিউটার ও আইটি সম্পর্কিত জ্ঞান।
  • ব্যাংকিং ও অর্থনৈতিক নীতি ইত্যাদি।

অনেক ক্ষেত্রে কোন কোন বেসরকারি ব্যাংক এর চেয়ে বেশি বিষয়ের উপরে পরীক্ষা নিতে পারে। তবে মেক্সিমাম ব্যাংক এ সমস্ত বিষয়ের উপরে পরীক্ষা নিয়ে থাকে।

এখানে একটি বিষয় বলে রাখা ভালো আর সেটি হল, প্রায় প্রতিটি ব্যাংক এমসিকিউ পরীক্ষার মাধ্যমে পরীক্ষা নিয়ে থাকে। যেখানে মেরিট লিস্ট অনুযায়ী রেজাল্ট প্রকাশ করা হয় এবং যারা মেরিট লিস্টের উপরে থাকে তারা প্রাধান্য পেয়ে থাকে।

সেজন্য আপনাকে ভালো প্রস্তুতি নিতে হবে, এবং একই সাথে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এই দৌড়ে আপনি এগিয়ে থাকতে পারবেন।

ব্যাংকে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে আরও কিছু উল্লেখযোগ্য বিষয়

এছাড়াও আপনি যদি ব্যাংকে চাকরি করতে চান, সে ক্ষেত্রে ব্যাংকে চাকরি করার ক্ষেত্রে আপনাকে এগিয়ে রাখার মত আরও বেশ কিছু বিষয় বিদ্যমান রয়েছে। এগুলোর মধ্যে থেকে উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় হলো:

পূর্বে যারা ব্যাংকে চাকরি করেছেন তাদের সাথে যোগাযোগ

পূর্বে যে বা যারা ব্যাংকে চাকরি করেছেন কিংবা বর্তমান সময়েও যারা ব্যাংকে চাকরি করছেন তাদের সাথে আপনি যদি যোগাযোগ রাখেন, তাহলে তাদের কাছ থেকে অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন।

এবং আপনি যদি ব্যাংকের কর্মরত ব্যক্তিদের কাছ থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তাহলে সেটি আপনার জন্য কার্যকরী হবে। এবং একই সাথে চাকরি করার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত উপকারী হবে।

এছাড়াও আপনি চাইলে বেশ কিছু বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে পারেন, যোগ্যতা এ সমস্ত বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করলে অন্যান্য প্রতিযোগির চেয়ে আপনি থাকবেন।

আর এই সমস্ত বিষয়গুলো হলো:

  • ডাটা অ্যানালাইসিস: ব্যাংকিং ও ফিনান্সিয়াল রিপোর্ট বিশ্লেষণ করার সক্ষমতা অর্জন করতে পারেন।
  • কম্পিউটার জ্ঞান: এমএস এক্সেল, ব্যাংকিং সফটওয়্যার, ও অনলাইন ব্যাংকিং সিস্টেম সম্পর্কে ভালো জ্ঞান অর্জন করতে পারেন। আপনি চাইলে অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন রকমের ফ্রি কোর্স করার মাধ্যমে কম্পিউটার সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জন করতে পারেন।

এবং আপনার যদি পূর্বে থেকে কম্পিউটারের জ্ঞান থেকে থাকে তাহলে আপনি চাইলে এটিকে আরও বেশি উন্নত করতে পারবেন।

ইন্টারনেটে বিভিন্ন রকমের ফ্রি কোর্স বিদ্যমান রয়েছে আপনি যদি গুগলে কিংবা ইউটিউবে গিয়ে সার্চ করেন তাহলে ফ্রি কোর্স পেয়ে যাবেন।

এবং এই সমস্ত ফ্রি পোস্ট করার মাধ্যমে আপনি এই সমস্ত বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন। যা আপনাকে ব্যাংকিং সেক্টরে চাকরি করার ক্ষেত্রে এগিয়ে রাখবে।

সমস্যা সমাধান ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা: দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি দ্রুত এবং সাথে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তাহলে যখন আপনি ভাইভা পরীক্ষা দিবেন তখন সেটি আপনার কাজে আসবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top