পাঁচটি জনপ্রিয় বাংলা খাবারের রেসিপি এবং তৈরীর উপায়

একজন বাঙালি নিত্য প্রয়োজনীয় খাবারের তালিকায় কিংবা নিত্য প্রয়োজনীয় যে সমস্ত রেসিপি ব্যবহার করে থাকেন, যে সমস্ত খাবারগুলো তারা খুবই বেশি পছন্দ করে থাকেন সে সমস্ত রেসিপি সম্পর্কে তথ্য এখানে তুলে ধরা হবে।

এবং একই সাথে দেখানো হবে, কিভাবে আপনি চাইলে এই সমস্ত রেসিপি তৈরি করতে পারেন। তাহলে আর দেরি না করে এখনই শুরু করা যাক।

পাঁচটি জনপ্রিয় বাংলা খাবারের রেসিপি

বাংলা খাবারের রেসিপি হিসেবে সেরা পাঁচটি রেসিপি সম্পর্কে তথ্য এখানে তুলে ধরা হবে। তাহলে আর দেরি না করে এখনি জেনে নেয়া যাক কিভাবে এগুলো তৈরি করা হয় এবং এই সমস্ত রেসিপি আসলে কি কি?

ভর্তা (বেগুন ভর্তা)

এখনো আপনি এরকম অনেক বাঙালি পরিবার পাবেন যে সমস্ত বাঙালি পরিবারের প্রতিদিনের খাবারের তালিকা কোন একটি ভর্তা থাকবে। এবং ভর্তা হিসেবে বিভিন্ন রকমের ভর্তা বিদ্যমান থাকে।

ভর্তা (বেগুন ভর্তা)

আমরা এখানে মূলত বেগুন ভর্তা সম্পর্কিত তথ্যটি তুলে ধরবো। সহজ কথা বলতে গেলে বেগুন দিয়ে যে ভর্তা তৈরি করা হয় সেটাকে বেগুন ভর্তা বলা হয়। এবং শুধুমাত্র এটি বেগুন দিয়ে যে তৈরি করা হয় সেটা কিন্তু নয়, এখানে আরো বিভিন্ন বিষয় সম্পৃক্ত করা হয় যার মাধ্যমে একটি পরিপূর্ণ সুস্বাদু ভর্তা তৈরি করা হয়।

আপনি যদি বেগুন ভর্তা করতে চান তাহলে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অনুসরণ করে, একটি সুস্বাদু বেগুন ভর্তা তৈরি করতে পারেন।

বেগুন ভর্তা তৈরি করতে প্রয়োজনীয় বিষয়:

এবার তাহলে জেনে নেয়া যাক বেগুন ভর্তা তৈরি করতে কি কি প্রয়োজন হয়।

  • ১টি বড় বেগুনের প্রয়োজন হবে।
  • ১ টেবিল চামচ রসুন বাটা।
  • ২ টেবিল চামচ তেল।
  • ১টি ছোট পেঁয়াজ কাটা।
  • ২টি সবুজ লঙ্কা
  • ১/২ চা চামচ হলুদ গুঁড়া।
  • ১/২ চা চামচ লবণ
  • ১/২ চা চামচ মরিচ গুঁড়া ব্যবহার করা হয়।

প্রণালী

যখন আপনি একটি সুস্বাদু বেগুন ভর্তা তৈরি করার ইচ্ছা প্রকাশ করবেন, তখন সেই বেগুন ভর্তা তৈরি করার জন্য যে সমস্ত প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে হবে সেগুলো হল:

  • বেগুনটি শুঁকিয়ে ভালো করে পুড়ে নিন। তারপর খোসা ছাড়িয়ে নিন, এবং ভিতরের যে অংশ রয়েছে সেই অংশটি কে আলাদা করে নিন।
  • এবার আপনাকে যে কাজটি করতে হবে সেটি হল, পেঁয়াজ কুচি, রসুন বাটা, সবুজ লঙ্কা, হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া এবং লবণ দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
  • প্যানের মধ্যে তেল গরম করে মিশ্রণটি ৩-৪ মিনিট নাড়াচাড়া করে দিন। তাহলেই তৈরি হয়ে যাবে সুস্বাদু বেগুন ভর্তা।

এর পরিপূর্ণ স্বাদ উপভোগ করার জন্য, গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করা যেতে পারে। গরম ভাতের সাথে এটি খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু।

পাঁপড় (বাঙালি পাঁপড়)

এটি একটি অসাধারণ রেসিপি যা খুব সহজেই তৈরি করা সম্ভব। এবং একই সাথে, এটি খুবই পুষ্টিকর বটে।

পাঁপড় (বাঙালি পাঁপড়)

নিচে থেকে জেনে নেয়া যাক কিভাবে আপনি এটি তৈরি করবেন, এবং একই সাথে এটি তৈরি করতে কি কি রকমের বিষয়াদির প্রয়োজন হবে।

পাপড় তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ

  • ১ কাপ মুগ ডাল।
  • ১ চা চামচ নুন।
  • ১/৪ চা চামচ জিরে গুঁড়া।
  • ১/৪ চা চামচ কাঁচা মরিচ গুঁড়া (ঐচ্ছিক)

উপরে উল্লেখিত উপকরণের সমন্বয়ে আপনি চাইলে পাপর তৈরি করতে পারবেন। এবার তাহলে জেনে নেয়া যাক কিভাবে এটি তৈরি করবেন।

পাঁপড় তৈরী করার উপায়

  • সর্বপ্রথম কাজ হিসেবে যে কাজটি করতে হবে সেটি হল, মুগ ডাল ভিজিয়ে সেদ্ধ করে নিন।
  • সেদ্ধ ডাল গ্রাইন্ড করে এবার আপনাকে পেস্ট বানাতে হবে৷
  • লবন, জিরে গুঁড়া, কাঁচা মরিচ গুঁড়া মিশিয়ে ভালো করে মাখুন।
  • মিশ্রণটি পাতলা করে ছড়িয়ে ফেলে শুকিয়ে নিন, তারপর তেলে ভেজে পাঁপড় তৈরি করুন।

এই রেসিপি আপনি চাইলে চিনির সাথে মিক্স করে খেতে পারেন। যা আপনার শরীরের জন্য অত্যন্ত সুস্বাস্থ্যকর এবং পুষ্টিকর।

মাংসের ঝোল

বাঙ্গালীদের তৈরি করা অন্যতম আরেকটি অসাধারণ রেসিপি হল মাংসের ঝোল। যা মূলত বাংলাদেশি খুবই জনপ্রিয় এবং অনেকের প্রতিদিনের খাবারে এটি থাকে।

মাংসের ঝোল

আপনি যদি মাংসের ঝোল তৈরি করতে চান, তাহলে উপকরণ হিসেবে যে সমস্ত বিষয়ের প্রয়োজন হবে সেগুলো ভালো:

উপকরণ:

  • ৫০০ গ্রাম মাংস (গরুর বা খাসির)। অথবা আপনি চাইলে এর পরিমাণ বৃদ্ধি করতে পারেন।
  • ২টি পেঁয়াজ।
  • ১ টেবিল চামচ আদা-রসুন বাটা।
  • ২টি টমেটো।
  • ১/২ চা চামচ হলুদ গুঁড়া।
  • ১ চা চামচ মরিচ গুঁড়া।
  • ২টি দারচিনি।
  • ৪টি লবঙ্গ।
  • ৩টি তেজপাতা।
  • ১/৪ চা চামচ এলাচ গুঁড়া।
  • ২ টেবিল চামচ তেল।
  • লবণ স্বাদ অনুযায়ী।

তুলে ধরা হয়েছে এগুলো প্রয়োজন অনুসারে একটু কমানো কিংবা বেশি করা যেতে পারে। যদি আপনি মাংসের পরিমাণ বৃদ্ধি করেন তাহলে সেটির পরিমাণে অন্যান্য উপকরণ কিছুটা বৃদ্ধি করতে পারেন।

এবং মাংসের পরিমাণ যদি আপনি কমিয়ে ফেলেন তাহলে সেটার অনুপাতে নিম্নের প্রতিটি উপকরণের পরিমাণ একটু কমিয়ে ফেলতে পারেন।

মাংসের ঝোল তৈরি করার উপায়

  • সর্বপ্রথম কাজ হিসেবে আপনাকে যে কাজটি করতে হবে সেটি হল, মাংস ভালো করে ধুয়ে, আদা-রসুন বাটা, হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া, লবণ দিয়ে মেরিনেট করে ১৫-২০ মিনিট রেখে দিন।
  • এবার পেঁয়াজ কুচি, টমেটো কুচি এবং সমস্ত মসলা তেলে ভালো করে ভেজে নিন।
  • মাংস যোগ করে একসাথে ভেজে নিন এবং পানি দিয়ে ঝোল তৈরি করুন।
  • এখন এই যেই রেসিপি রয়েছে সেটি ৪০-৫০ মিনিট রান্না করুন এবং গরম গরম পরিবেশন করুন।

যখন আপনি গরম ভাতের সাথে এটি খাবেন, তখন এটি খেলে মন জুড়িয়ে যাবে।

শুটকি মাছের তরকারি

স্বল্প সময় তৈরি করা এবং মজাদার রেসিপি হিসেবে শুটকি মাছের তরকারি একটি অসাধারণ রেসিপি হতে পারে। শুটকি মাছের তরকারি রান্না করার জন্য, যে সমস্ত উপকরণের প্রয়োজন হবে এবং একই সাথে যেভাবে আপনি এটি রান্না করতে পারবেন সেটি নিচে তুলে ধরা হলো।

শুটকি মাছের তরকারি

উপকরণ:

  • ২০০ গ্রাম শুঁটকি মাছ প্রয়োজন। (প্রয়োজন অনুসারে বাড়ানো যেতে পারে)
  • ১টি বাঁধাকপি কাটা
  • ১টি আলু কাটা
  • ১টি টমেটো কাটা
  • ১ টেবিল চামচ মেথি দানা
  • ১/২ চা চামচ হলুদ গুঁড়া
  • ১/২ চা চামচ মরিচ গুঁড়া
  • ২ টেবিল চামচ তেল
  • লবণ স্বাদ অনুযায়ী

যখন আপনি শুটকির পরিমাণ বৃদ্ধি করবেন তখন এখানে থাকা অন্যান্য উপকরণের পরিমাণ বৃদ্ধি করা যাবে।

রেসিপি তৈরি করার উপায়

  • শুঁটকি মাছ ভালোভাবে ধুয়ে নিন এবং হালকা ভেজে নিন।
  • মেথি দানা তেলে ফোড়ন দিয়ে বাঁধাকপি, আলু, টমেটো যোগ করে মশলা ভেজে নিন।
  • পানি দিয়ে সেদ্ধ করতে দিন এবং শুঁটকি মাছ যোগ করুন।

যখনই আপনি এটি রান্না করে ফেলবেন, তারপরে গরম ভাতের সাথে আপনি চাইলে এটিকে গরম গরম পরিবেশন করতে পারেন।

রসগোল্লা

মিস্টি জাতীয় খাবারের মধ্যে অসাধারণ একটি রেসিপি হল রসগোল্লা। এটি বাংলাদেশে খুবই জনপ্রিয় এবং সর্বাধিক খাওয়া একটি রেসিপি। এছাড়াও স্বল্প সময়ে যেহেতু এটি তৈরি করা যায় সেজন্য এটির জনপ্রিয়তা আরো বেশি।

রসগোল্লা

জেনে নেয়া যাক কিভাবে রসগোল্লা তৈরি করতে হয় এবং রসগোল্লা তৈরি করার জন্য উপকরণগুলো সম্পর্কে।

রসগোল্লা তৈরি করার উপকরণ:

  • ১ লিটার দুধ
  • ১/২ কাপ চিনিযুক্ত পানি
  • ১ চা চামচ এলাচ গুঁড়া
  • ১/২ কাপ পানি (সিরাপের জন্য)

রসগোল্লা তৈরি করার উপায়

  • দুধ ফুটিয়ে তার মধ্যে লেবুর রস দিয়ে চিজ বানিয়ে নিন।
  • চিজের জল ফেলে বাকি অংশ থেকে রস গুলো ভালোভাবে ছেঁকে নিন।
  • গোল গোল আকৃতির রসগোল্লা বানিয়ে পানিতে ফেলে সিদ্ধ করতে হবে।
  • সিরাপ তৈরি করে রসগোল্লায় ঢেলে গরম গরম পরিবেশন করুন।

উপরে যে পাঁচটি রেসিপির কথা তুলে ধরা হয়েছে এগুলো হলো বাংলাদেশের বাঙ্গালীদের ঐতিহ্যের একটি অংশ।এবং বাংলাদেশের এরকম কোন মানুষ আপনি খুঁজে পাবেন না, যারা এখান থেকে কোন একটি রেসিপি ইতিমধ্যে গ্রহণ না করেছেন।

এবং এরকমও মানুষ আপনি নিতান্তই কম খুঁজে পাবেন না, যারা এখানে থাকা প্রত্যেকটি রেসিপি গ্রহণ করেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top