একটি সফল অর্থনৈতিক পরিকল্পনা করার উপায়

যে কোন ক্ষেত্রে আপনি যদি সফল হতে চান, তাহলে আপনাকে অবশ্যই পরিকল্পনামাফিক আগাতে হবে। একটি উত্তম পরিকল্পনা ছাড়া কোন একটি সেক্টরে সফল হওয়া সম্ভব না৷ একই রকম ভাবে অর্থনৈতিকভাবে সফলতা অর্জন করার জন্য, একটি ভালো এবং মানানসই অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে আপনাকে যে সমস্ত বিষয়ে মাথায় রাখতে হবে, এবং একই সাথে কিভাবে আপনি একটি সফল পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারবেন, সেই সম্পর্কে তথ্য এখান থেকে জেনে নিতে পারবেন।

তাহলে আর দেরী না করে এখনই শুরু করা যাক।

অর্থনৈতিক পরিকল্পনা আসলে কি?

অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দতা ফিরিয়ে আনার জন্য কিংবা অর্থনৈতিকভাবে বিভিন্ন রকমের সমস্যার মোকাবেলা করার ক্ষেত্রে আমরা যে পরিকল্পনা করে থাকি, তাকে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা করা হয়।

পরিকল্পনা করার ক্ষেত্রে আমাদের বেশ কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হয় যার মাধ্যমে আমরা এটিকে সফল করতে পারি।

ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা করতে হলে কিছু ধাপে কাজ করা প্রয়োজন। নিচে সঠিক কৌশলগুলো বর্ণনা করা হলো হলো:

লক্ষ্য নির্ধারণ করুন

সর্বপ্রথম ধাপ হিসেবে আপনাকে যেটা কাজ করতে হবে সেটি হল একটি নির্দিষ্ট লক্ষণ নির্ধারণ করতে হবে। কারণ মাঝি বিহীন নৌকা মাঝ সাগরে যেভাবে অসহায়, ঠিক একই রকম ভাবে লক্ষ্যহীন বিষয়বস্তু অসহায় বটে।

সেজন্য আপনাকে একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। একটি ভালো এবং বৃহৎ লক্ষ্য নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে, যে কয়েকটি বিষয়ের দিকে নজর দেয়া যেতে পারে সেটি নিচে দেয়া হল:

স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্য

সর্বপ্রথম স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্যে আগাতে হবে। কারণ প্রথমেই আপনি যদি দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের ইচ্ছা পোষণ করেন তাহলে সেটি সম্ভব নাও হতে পারে। সেজন্য ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বুঝে সর্বপ্রথম স্বল্প মেয়াদে লক্ষ্যের দিকে আগানো যাক।

আপনি চাইলে এক বছরের মধ্যে থাকা সঞ্চয় করতে পারেন। এবং এই টাকা সঞ্চয় করার পদ্ধতি আপনি কি লক্ষ্য অর্জন করতে চান সেটিও নির্ধারণ করে ফেলতে পারেন।

এছাড়াও এক বছর মেয়াদের মধ্যে আপনি অন্য যে কোন রকমের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের অংশগ্রহণ করতে পারেন৷ এবং, একটি সফল লক্ষ্য অর্জন করতে পারবেন।

দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য

এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আপনি যদি দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জন করতে ব্যর্থ হন তাহলে আপনার ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হিসেবে আপনি যেমন সমস্ত বিষয়গুলো রাখতে পারেন তার মধ্যে থেকে অন্যতম হলো: বাড়ি কেনা, সন্তানদের শিক্ষা গ্রহণ, এবং একই সাথে অবসরের জন্য সঞ্চয় করা।

দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হিসেবে এই সমস্ত বিষয়গুলো মাথায় রাখতে পারেন।

বাজেট তৈরি করুন

যখন অর্থনৈতিক ব্যাপারে পরিকল্পনার কথা চলে আসে তখন আমাদেরকে বাজেট তৈরি করার চিন্তা মাথায় রাখতে হয়। কারণ, আপনি যদি একটি সফল বাজেট তৈরি করতে ব্যর্থ হন তাহলে সেটি আপনার টাকা ম্যানেজমেন্ট করার সম্ভাবনা কমিয়ে দিবে।

একটি একটি বাজেট তৈরি করার ক্ষেত্রে, সাধারণ একটি নিয়ম মেনে চলতে পারেন। এখানে প্রধানত হল, আপনার মাসিক আয়ের (বেতন, ব্যবসার লাভ) ও ব্যয়ের হিসাব রাখুন। এবং তারপরে আপনি চাইলে ৫০/৩০/২০ নিয়ম অনুসরণ করুন করতে পারেন।

৫০/৩০/২০ নিয়ম আসলে কি?

৫০/৩০/২০ নিয়ম এর মানে হলো:

  • ৫০% প্রয়োজনীয় খরচ (খাদ্য, বাসস্থান)।
  • ৩০% ব্যক্তিগত ইচ্ছা।
  • ২০% সঞ্চয় ও বিনিয়োগ।

এটি একটি সাধারণ ধারণ। আপনি আপনার প্রয়োজন অনুসারে এটি কমাতে পারেন কিংবা বৃদ্ধি করতে পারেন।

আপনার প্রয়োজনীয় খরচ

একটি সফল অর্থনৈতিক প্ল্যান তৈরি করার ক্ষেত্রে আপনাকে যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিতে হবে, সেটি হল, আপনার প্রয়োজনীয় খরচ কত টাকা এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে আপনি কত টাকা খরচ করেন।

প্রয়োজন এবং অপ্রয়োজনের যে খরচ হয়েছে সেটি যদি আপনি মূল্যায়ন করতে পারেন এবং এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেন তাহলেই আপনি সফল অর্থনৈতিক প্ল্যান তৈরি করতে সক্ষম হবেন।

  • এক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় খরচ একেবারে কমিয়ে দিন।
  • খরচ করার পূর্বে অবশ্যই জেনে বুঝে খরচ করার অভ্যাস করে তুলুন।

এই দুইটি পয়েন্ট মনে রাখলে, অর্থনৈতিক সার্থকতা অনেক বেশি বৃদ্ধি পাবে।

জরুরি সময় ব্যয় করা

আমাদের জীবনে এরকম অনেক অনাকাঙ্খিত মুহূর্ত চলে আসে, যে মুহূর্তের জন্য আমার প্রস্তুত থাকি না। এই অনাকাঙ্খিত মুহূর্ত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য জরুরী সময় ব্যয় করার মত একটি তহবিল গড়ে তোলা যেতে পারে।

অন্ততপক্ষে ৩-৬ মাসের ব্যয়ের সমান পরিমাণ অর্থ একটি জরুরি তহবিলে রাখুন। এরই অনাকাঙ্ক্ষিত মুহূর্তে আপনার কাজে আসবে।

বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা

অর্থনৈতিকভাবে স্বাচ্ছন্দ্যতা কিংবা সফলতা পাওয়ার অন্যতম একটি মাধ্যম হলো বিনিয়োগ করা। ভালোভাবে বুঝে শুনে বিনিয়োগ করার মাধ্যমে আপনার অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে৷

সে জন্য আপনার সঞ্চয়ের একটি অংশ দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করতে পারেন। তবে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই ভালোভাবে বুঝে শুনে এবং গুরুত্বপূর্ণ যে সমস্ত সেক্টর রয়েছে সেগুলোতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

যেকোনো জায়গায় বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই বিনিয়োগের ঝুঁকি এবং আরো যে সমস্ত বিষয় রয়েছে সেগুলো সম্পর্কে অবগত হয়ে যান। কারণ আপনি এখানে অর্থ বিনিয়োগ করছেন, কাগজ নয়।

অর্থনৈতিক জ্ঞান বৃদ্ধি করা

আপনি যখন অর্থনৈতিক একটি প্লান তৈরি করার চেষ্টা করবেন তখন আপনি একেবারেই যে সফল হয়ে যাবেন সেটা চিন্তাভাবনা করা বোকামি। এক্ষেত্রে আপনি ভুল করবেন এবং তারপরে সেখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবেন।

অর্থনৈতিক জ্ঞান বৃদ্ধি করা
অর্থনৈতিক জ্ঞান বৃদ্ধি করা

এছাড়াও সার্বক্ষণিক যে সমস্ত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারেন সেই সম্পর্কিত জ্ঞান আহরণ করা খুবই প্রয়োজন। এক্ষেত্রে আপনি চাইলে অর্থনৈতিক বিষয়ক বিভিন্ন রকমের জন্য প্রিয় বই পড়তে পারেন। যার মাধ্যমে অর্থনৈতিক জ্ঞান বৃদ্ধি করা যাবে।

বর্তমান সময়ে অর্থনীতি সম্পর্কে ভালো ধারণা নেয়ার জন্য যে সমস্ত বই আপনি পড়তে পারেন সেগুলোর মধ্যে থেকে উল্লেখযোগ্য কিছু বইয়ের লিংক নিচে দেয়া হল।

অর্থনৈতিক বিষয়ে বই

উপরে উল্লেখিত বইগুলো পড়ার মাধ্যমে অর্থনৈতিক বিষয়ে বিভিন্ন জ্ঞান অর্জন করতে। এবং বিভিন্ন চ্যালেন্জ সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন।

একটি সফল প্লান এবং ভুল থেকে শিক্ষা নেয়ার জন্য, জ্ঞান আহরণ করা এবং বই পড়ার কোন বিকল্প নেই।

সেজন্য অর্থনৈতিক জ্ঞান বাড়ানোর চেষ্টা করুন।

আপনার প্রগ্রেস পর্যালোচনা করুন

যখন আপনি একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন পরিকল্পনা গ্রহণ করার পরে আপনাকে অন্যতম যে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকতে হবে, সেটা হলো আপনি যে পরিকল্পনা গ্রহণ করছেন সেই পরিকল্পনাটি কতদূর আগাচ্ছে।

অর্থাৎ এখানে কোন কোন বিষয়ে পুনরায় পর্যালোচনা করা উচিত এবং কোন কোন বিষয়ে আপনাকে আরো বেশি বেগবান হওয়া উচিত এ সম্পর্কে জেনে নেয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই আপনার প্রগ্রেস পর্যালোচনা করতে হবে।

প্রগ্রেস পর্যালোচনা

সেজন্য আপনার অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়মিত পর্যালোচনা করুন।

এছাড়া একটি ভালো অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে, আরও যে সমস্ত বিষয়ে আপনাকে সচেষ্ট থাকতে হবে সেগুলো হলো, আপনার যদি কখনো ঋন হয়ে যায়, তাহলে ঋণ দ্রুত পরিষোধের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করুন।

এছাড়াও যেকোন সমস্যায় পড়লে অবশ্যই অন্যদের সাহায্য নিন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top