আসসালামু আলাইকুম, আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহর অশেষ রহমতে আপনারা সবাই ভাল আছেন।
আপনি যদি উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাড়ি জমাতে চান তাহলে আপনাকে বেশ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এবং এই পরিকল্পনা অনুযায়ী আপনি যদি এগিয়ে যান তাহলে বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিয়ে আসবে বিষয়টি আপনার জন্য আরো বেশি সহজ হয়ে যাবে।
বিদেশী উচ্চ শিক্ষা নেওয়ার জন্য যে সমস্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে এবং যে সমস্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে জেনে নিতে হবে সেই সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য এখানে তুলে ধরা হবে। এজন্য এই আর্টিকেলটি একদম শেষ পর্যন্ত দেখে নিতে পারেন।
উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেয়ার প্রয়োজনীয়তা
যখনই আপনি বাংলাদেশে লেখাপড়ার গন্ডি পার করে ফেলবেন, তখন আপনাকে উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে পাড়ি জমানোর চিন্তা ভাবনা করতে হবে।
আপনি জানলে অবাক হবেন যে আপনি বর্তমানে যে দেশে যে বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চ শিক্ষার জন্য আবেদন করছেন সেই দেশের সেই একই বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চ শিক্ষার জন্য আরো হাজার খানেক কিংবা লাখ খানেক প্রার্থী আবেদন করতে পারেন।
সেজন্য, আপনি যদি সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে না পারেন এবং আবেদন করার ক্ষেত্রে এবং একই সাথে আবেদন করার পরবর্তী সময়ের সমস্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে জেনে নেয়ার প্রয়োজন সেগুলো সম্পর্কে না জানেন, তাহলে আপনার আবেদন রিজেক্ট হয়ে যাওয়া সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে।
আবেদন করার পরে আপনার কাঙ্খিত বিশ্ববিদ্যালয় কাঙ্খিত সাবজেক্ট পাওয়ার জন্য সফলতা বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে, সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা খুবই প্রয়োজনীয়।
তাহলে আর দেরি না করে এখনই জেনে নেয়া যাক এ সমস্ত পদক্ষেপ সম্পর্কে।
লক্ষ্য নির্ধারণ করা
যে কোন কাজে সর্বপ্রথম লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। এবং কোন একটি কাজ কতটুকু এগিয়ে যাবে কিংবা কোন একটি কাছ থেকে আপনি কতটুকু সফলতা পেতে পারেন তার সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনি কি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন সেই লক্ষ্যের উপরে।
এটিকে একই রকমভাবে যখন কোন একটি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হওয়া আপনার ইচ্ছা, তখন আপনাকেও সঠিকভাবে লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে।
লক্ষ্য নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে যে সমস্ত বিষয়গুলো মাথায় রাখা প্রয়োজন সেগুলো হলো:
শিক্ষার ক্ষেত্র
আপনি কোন বিষয় নিয়ে পড়তে চান, কোন বিষয়ের প্রতি আপনার আগ্রহ সবচেয়ে বেশি সেটি আগে নির্ধারণ করুন। কিংবা আপনি যদি বর্তমানে ব্যাচেলর ডিগ্রি শেষ করে ফেলেন, তাহলে ব্যাচেলর ডিগ্রি নেয়ার যে সাবজেক্ট রয়েছে সেটির আনুসাঙ্গিক যে সাবজেক্ট রয়েছে সেটি নির্ধারণ করতে পারেন৷
তবে আপনি কোন সাবজেক্ট নির্ধারণ করবেন সেটা সম্পূর্ণ আপনার ব্যাপার। সেজন্য ভালোভাবে চিন্তা ভাবনা করে আপনার প্রয়োজন এর উপর ভিত্তি করে একটি সাবজেক্ট নির্বাচন করে ফেলুন।
দেশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়
উচ্চ শিক্ষার জন্য আপনি কোন দেশে যেতে চান, দেশ নির্ধারণ করার পরে আপনি সেই দেশে নির্দিষ্ট কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আবেদনের ইচ্ছুক সেটি নির্ধারণ করে নিতে হবে।
উচ্চ শিক্ষার জন্য যে সমস্ত দেশ খুবই পরিচিত এবং সে সমস্ত দেশে উচ্চ শিক্ষা নেয়া সহজ হতে পারে, সে সমস্ত দেশ আপনার পছন্দের তালিকা প্রথম রাখতে পারেন।
এছাড়াও কোন একটি দেশে নির্দিষ্ট একটি সাবজেক্ট পাওয়া কঠিন এটা চিন্তা করে আপনি সেই দেশে আবেদন করবেন না, সেটা কিন্তু হয় না। আপনার যোগ্যতার ভিত্তিতে যেহেতু আপনি একটি বিষয় পাবেন সেজন্য আপনার যোগ্যতা বিবেচনায় একটি দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করে ফেলুন।
এছাড়াও আপনি ভবিষ্যতে কি রকমের চাকরি করতে চান কিংবা কি রকমের গবেষণায় সম্পৃক্ত হতে চান সেটা বিবেচনা করে একটি বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করে নিতে পারেন।
এনালাইসিস এবং গবেষণা
আপনি যে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করেছেন সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান রেংকিং সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোর্স আপনি নির্ধারণ করেছেন, সেই কোর্সের মান এবং একই সাথে সেখানে শিক্ষাবৃত্তি সম্পর্কে ভালোভাবে গবেষণা করা প্রয়োজন।
এই বিষয়গুলো মৌলিক বিষয় এবং এগুলো গবেষণা করা বাঞ্ছনীয়। কারণ, আপনি যদি এরকম কোন একটি বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারণ করে নেন, যে বিশ্ববিদ্যালয় লেখাপড়ার মান সেরকম ভালো নয়, তাহলে সেটি আপনার জন্য বোকামি হতে পারে এবং সময় নষ্টের একটি অন্যতম লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
সেজন্য, বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে এবং বিষয় সম্পর্কে এই সমস্ত গবেষণা করে নেয়া বাঞ্চনীয়।
এছাড়া আরো ভালোভাবে এনালাইসিস করার জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয় যে সমস্ত শিক্ষার্থী রয়েছেন তাদের সাথে আলোচনা করতে পারেন। এবং শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা জেনে নিতে পারেন।
যখন শিক্ষার্থীদের কাছে আলোচনা করার প্রয়োজনীয়তা চলে এসেছে, তখন একটি সহজ প্রশ্ন আপনার মাথায় আসতে পারে, আর এটি হল সেই নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আপনি কোথায় পাবেন? আসলেই বিষয়টি তাই। কোথায় পাবেন কাঙ্খিত শিক্ষার্থীদের?
একটি নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাওয়ার জন্য বিশেষ অনেকগুলো পদক্ষেপ অনুসরণ করা যেতে পারে। এর মধ্যে থেকে অন্যতম একটি পদক্ষেপ হতে পারে সোসিয়াল গণমাধ্যম।
উদাহরণস্বরূপ আপনি স্টান্ডফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পেতে চান। এবার আপনি যদি স্ট্যান্ডফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল যে ফেসবুক পেইজ রয়েছে কিংবা শিক্ষার্থীদের তৈরি যে facebook গ্রুপ রয়েছে সেখানে জয়েন করতে পারেন।

ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করলে আপনি সেখানে অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী দেখতে কমিউনিটি পেতে পারেন। আপনি চাইলে তাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। অথবা আপনি চাইলে গ্রুপে পোস্ট করার মাধ্যমে সেই বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন।
এছাড়াও ফেসবুক পেইজের কমেন্ট বক্স ব্যবহার করার মাধ্যমে, বিভিন্ন ছাত্রছাত্রীরা অনুসন্ধান এবং অভিজ্ঞতা পাওয়া যেতে পারে।
ভাষাগত প্রস্তুতি
যখন আপনি একটি দেশকে উচ্চ শিক্ষার জন্য বেছে নিবেন, তখন আপনাকে মৌলিকভাবে সেই দেশের ভাষা এবং একই সাথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ইংরেজি ভাষা আয়ত্ত করতে হবে।
IELTS/TOEFL ইংরেজি ভাষার দক্ষতা প্রমাণের জন্য এই পরীক্ষাগুলোর জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেন। এছাড়াও বিদেশীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চ শিক্ষার জন্য IElTS এ নির্দিষ্ট গ্রেড পেতে হয়। এই বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে যান।
এছাড়াও বলা বা হল, কিছু দেশে অন্যান্য ভাষার দক্ষতা প্রয়োজন হতে পারে। (যেমন জার্মান, ফ্রেঞ্চ)। সেজন্য, আপনি যেই দেশে যেতে চান সেই দেশের ভাষাগত প্রস্তুতি সম্পর্কে ধারনা অর্জন করুন এবং প্রয়োজনীয় ভাষা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করুন।
একাডেমিক প্রস্তুতি নিন
এবার আপনাকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রস্তুতি নিতে হবে আর সেটি হল, একাডেমিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা। একাডেমিক প্রস্তুতি গ্রহণ করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় আপনাকে বিভিন্ন রকমের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা দিতে হবে এবং সেখানে উন্নীত হতে হবে।
এক্ষেত্রে বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়, প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- GRE/GMAT: নির্দিষ্ট কোর্সের জন্য।
- SAT/ACT: ব্যাচেলর প্রোগ্রামের জন্য।
এছাড়া আপনি যে বিশ্ববিদ্যালয় যেতে চান সেই বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে নিন এবং সেখানে প্রয়োজনীয় যে পরীক্ষা রয়েছে, তার সম্পর্কে ধারণা অর্জন করুন এবং প্রস্তুতি গ্রহণ করুন।
একাডেমিক রেকর্ড ভালো রাখতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করুন।
ডকুমেন্ট প্রস্তুত করুন
যে কোন একটি বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চ শিক্ষার জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই নির্দিষ্ট ডকুমেন্ট প্রদান করতে হবে। সেজন্য আপনার প্রতিষ্ঠানিক সমস্ত ডকুমেন্ট সংগ্রহ করে রাখুন, যাতে করে প্রয়োজনের সময় আপনি এগুলো সাবমিট করতে পারেন।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে যেগুলো থাকতে পারে:
- সোপ (Statement of Purpose): আপনার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের বিবরণ, এখানে বিশদভাবে বর্ণনা করা থাকবে।
- লর (Letter of Recommendation): শিক্ষকের বা নিয়োগকর্তার কাছ থেকে সুপারিশ পত্র সংগ্রহকৃত একটি কাগজ প্রয়োজন হবে।
- সিভি (Curriculum Vitae): একাডেমিক এবং কর্মজীবনের সারসংক্ষেপ।
এছাড়াও প্রয়োজনীয় আরো যে সমস্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হবে সেগুলো হল:
- একাডেমিক সার্টিফিকেট এবং মার্কশিট।
- পাসপোর্ট ও অন্যান্য পরিচয়পত্র।
বিশ্ববিদ্যালয় আবেদন করা
এবার আপনাকে এই যে প্রয়োজনীয় কাজটি করতে হবে সেটি হল বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে হবে। যেহেতু বর্তমান সময় হচ্ছে ইন্টারনেটের যুগ সে জন্য, আবেদন করার জন্য আপনাকে সেই কাঙ্খিত দেশে যেতে হবে না।
আপনি চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জেনে নিতে পারবেন। এবং তারপরে প্রয়োজনে ফি জমা দেয়ার মাধ্যমে আবেদন ফরম পূরণ করতে পারবেন।
যদি আপনার আবেদন গ্রহণ করা হয় তাহলে আপনি পরবর্তী পদক্ষেপ অনুসরণ করতে পারেন।
এরপর পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে আপনি শিক্ষাবৃত্তি কিংবা আর্থিক সহায়তা খোঁজার চেষ্টা করতে পারেন। এবং ভিসা প্রসেসিং এ এগিয়ে যেতে পারেন। এ সমস্ত পদক্ষেপ অংশগ্রহণ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই, ডেড লাইন সম্পর্কে অবগত হতে হবে এবং সমস্ত কাজ ডেড-লাইনের আগে সম্পন্ন করতে হবে।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা নেয়ার জন্য মৌলিক যে সমস্ত বিষয় রয়েছে সেগুলো সম্পর্কে উপরে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
অসংখ্য ধন্যবাদ, আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য।