আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা সবাই আপনারা কেমন আছেন? আশা করি, আল্লাহর অশেষ রহমতে আপনারা অনেক ভাল আছেন।
বর্তমান সময়ে ডিজিটাল দুনিয়া থেকে, ইন্টারনেটে একটি ক্যারিয়ার গড়ে তোলার জন্য যে সমস্ত সেক্টরে আপনি যেতে পারেন, কিংবা বিভিন্ন রকমের স্কিল অর্জন করতে পারেন। এবং এগুলোর মধ্যে থেকে অন্যতম একটি হলো ওয়েব ডেভেলপমেন্ট।
ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখার মাধ্যমে আপনার চমৎকার দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আপনি চাইলে ফ্রিল্যান্সিং চাকরি বা নিজের প্রজেক্ট তৈরি করার সুযোগ পেতে পারেন। এখন আপনি যদি ঘরে বসে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শিখতে চান, তাহলে আপনাকে অবশ্যই ডেভেলপমেন্ট শেখার রোড ম্যাপ সম্পর্কে অবগত হতে হবে।
সেক্ষেত্রে আপনি যদি ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শিখতে চান, তাহলে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখার, এ টু জেড সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য এখান থেকে জেনে নিতে পারবেন।
ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কেন শিখবেন?
আপনি যদি ইন্টারনেটে একটি ক্যারিয়ার নির্বাচন করতে চান এবং একই সাথে আপনি যদি একটি লাভজনক এবং শক্তিশালী ক্যারিয়ার গড়ার চিন্তা-ভাবনা করেন, তাহলে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট আপনার জন্য একটি অনন্য সহকারী।

এছাড়াও আপনি যদি নিত্য নতুন প্রজেক্ট তৈরি করতে চান এবং একই সাথে বিভিন্ন কাজকে আরো বেশি সহজ করতে চান, তাহলে আপনি ডেভেলপমেন্ট শিখতে পারেন।
ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখার রোড ম্যাপ
যেকোনো বিষয়ে শেখার জন্য, আপনাকে অবশ্যই সঠিকভাবে ধারণা অর্জন করে নিতে হবে। ঠিক একই রকম ভাবে আপনি যদি ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শিখতে চান, তাহলে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা অর্জন করে নিতে হবে।
অর্থাৎ সর্বপ্রথম আপনাকে বুঝতে হবে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট আসলে কি এবং ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কি কাজে লাগে? এবং একই সাথে ডেভেলপমেন্ট শিখলে আপনি কি কি রকমের সুফল পেতে পারেন এবং ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে যে সমস্ত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারেন সম্পর্কে বিস্তারিত।
ওয়েব ডেভেলপমেন্টে মূলত তিনটি পর্যায়ে কিংবা ধাপ রয়েছে। অথবা সহজ ভাবে বলতে গেলে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট করার ক্ষেত্রে, আপনি চাইলে তিন দিকে যেতে পারেন৷ আর সেগুলো হল:
ফ্রন্ট এন্ড ডেভেলপমেন্ট: ইউজার ইন্টারফেস তৈরি (HTML, CSS, JavaScript)। অর্থাৎ আমরা যে কোন একটি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পরে যে অসাধারণ ডিজাইন দেখতে পারি সেটি হল ফ্রন্ট এন্ড ডেভেলপমেন্ট।
ব্যাকএন্ড ডেভেলপমেন্ট: এছাড়াও আমরা যখন কোন একটি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করি এবং তারপরে সেই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পরে আমরা যখন কোন একটি তথ্য ইনপুটতেই সেই তথ্য ইনপুট দেয়ার পরে, সেই সমস্ত তথ্য যেখানে গিয়ে প্রবেশ করে, এবং সেভ হয় সেটি হল বেকেন্ড৷
আর যে সমস্ত ডেভেলপার এই কাজটি করে থাকেন তাদেরকে ব্যাকএন্ড ডেভলপার বলা হয়ে থাকে৷ সার্ভার, ডাটাবেস ও অ্যাপলিকেশন লজিক (Node.js, PHP, Python, etc.)
ফুল স্ট্যাক ডেভেলপমেন্ট: ডেভলপার ফ্রন্ট এন্ড, এবং বেকেন্ড একসাথে করে থাকেন তাদেরকে ডেভেলপার বলা হয়ে থাকে।
ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখার পদ্ধতি কিংবা ধাপ:
যখন আপনি ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখার ইচ্ছা প্রকাশ করবেন, কিংবা আপনি ওয়েব ডেভেলপমেন্ট করতে চাইবেন তখন আপনাকে একটি নির্দিষ্ট ধাপে সেটি শিখতে হবে, যাতে করে আপনি সহজেই এবং সঠিকভাবে এটি শিখতে পারেন।
ফ্রন্ট এন্ড ডেভেলপমেন্ট শেখার উপায়
উপরের অংশে আলোচনা করা হয়েছে, ফ্রন্টএন্ড হলো ওয়েবসাইটের দৃশ্যমান অংশ যা ইউজাররা দেখে এবং ব্যবহার করে। এবং আপনি যদি ফ্রন্ট এন্ড শিখেন তাহলে আপনাকে বেশ কিছু বিষয়ে ধারণা অর্জন করতে হবে কিংবা যেভাবে আপনি ফ্রন্ট এন্ড ডেভেলপমেন্ট শিখতে পারবেন সেগুলো হল:
HTML (HyperText Markup Language)
এটি শেখার জন্য আপনাকে সর্বপ্রথম ওয়েব সাইটের স্ট্রাকচার তৈরি করা শিখতে হবে। আর ওয়েবসাইটে স্ট্রাকচার তৈরি করার জন্য html ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
যখন আপনি এইচটিএমএল শিখতে চাইবেন, তখন আপনাকে যে সমস্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা অর্জন করতে হবে, সে সমস্ত বিষয়গুলো হলো:
- HTML ট্যাগ, এলিমেন্ট ও অ্যাট্রিবিউট
- ফর্ম ও টেবিল
- মিডিয়া (ইমেজ, অডিও, ভিডিও)
CSS (Cascading Style Sheets
যখন আপনি ওয়েবসাইটের স্ট্রাকচার সম্পর্কে অবগত হয়ে যাবেন কিংবা এইচটিএমএল সম্পর্কে জেনে নিবেন তারপরে আপনাকে ওয়েবসাইট কে ডিজাইন করার জন্য সিএসএস সম্পর্কে ধারণা অর্জন করতে হবে৷
এটি মূলত ওয়েবসাইটের ডিজাইন ও লেআউট তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
যখন আপনি সিএসএস শিখবে তখন আপনাকে প্রাথমিকভাবে যে সমস্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে হবে সেগুলো হল:
- CSS সিলেক্টর ও প্রোপার্টি
- Flexbox ও Grid Layout
- রেস্পন্সিভ ডিজাইন (Media Queries)
JavaScript (JS)
যখন আপনি html এবং সিএসএস থেকে নিবেন তারপরে আপনাকে এই html এবং css দিয়ে তৈরি করা যেই প্রোপার্টিগুলো রয়েছে সেগুলোকে কাজ করাতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, যখন আপনি বাটনে ক্লিক করবেন তখন সেটি একটি মডেল ওপেন করবে। কিংবা সেটি একটি ডাটা দেখাবে। এ সমস্ত কাজগুলো করার জন্য জাভা স্ক্রিপ্ট ব্যবহার করা হয়ে থাকে৷
প্রাথমিকভাবে, জাভাস্ক্রিপ্টের যে সমস্ত মৌলিক বিষয়গুলো শিখতে হবে সেগুলো হল:
- ভেরিয়েবল, ফাংশন, লুপ
- DOM ম্যানিপুলেশন
- ইভেন্ট হ্যান্ডলিং
ব্যাকএন্ড ডেভেলপমেন্ট শেখার উপায়
ব্যাকএন্ড হলো ওয়েবসাইটের সার্ভার-সাইড অংশ যেখানে ডাটাবেস, অথেনটিকেশন এবং ডাটা গুলো ভালোভাবে ম্যানেজমেন্ট করার জন্য বিভিন্ন রকমের লজিক থাকে।
ক্ষেত্রে আপনি ব্যাক এন্ড ডেভেলপমেন্ট শেখার জন্য মৌলিকভাবে বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে ধারণা অর্জন করবেন।
সার্ভার-সাইড ল্যাঙ্গুয়েজ শিখুন
আপনি নিচের যেকোনো একটি শিখতে পারেন:
- Node.js (JavaScript): এটি একটি দ্রুত এবং জনপ্রিয় ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম।
- PHP: ওয়ার্ডপ্রেস ও অন্যান্য CMS এর জন্য দরকারি ।
- Python (Django/Flask): সহজ ও অত্যন্ত পাওয়ারফুল ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম।
- Java (Spring Boot): এন্টারপ্রাইজ লেভেলের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
ডাটাবেস ব্যবস্থাপনা শিখুন
যখন আপনি ডাটাবেজের সার্ভার সাইড ল্যাঙ্গুয়েজ সম্পর্কে ধারনা অর্জন করে নিবেন তারপরে আপনাকে সমস্ত ডাটাবেজ টুল কিভাবে পরিচালনা করতে হয়, সেই সম্পর্কে জেনে নিতে হবে।
API (Application Programming Interface)
তখন আপনি একটি অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করবেন তখন অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করার ক্ষেত্রে আপনি চাইলে নিজে থেকে ডাটা তৈরি করার মাধ্যমে সেই অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করতে পারবেন। যা খুবই সময় সাপেক্ষ, একটি ব্যাপার।
অথবা আপনি চাইলে পূর্বে থেকে যে সমস্ত এপিআই রয়েছে সে সমস্ত এপিআই কল করার মাধ্যমে ডাটা আপনার ওয়েবসাইটে দেখাতে পারবেন কিংবা আপনি যেই কাজটি করতে চান সেই কাজটি করতে পারবেন৷
সেজন্য একজন ডেভেলপার হিসেবে আপনাকে রেস্ট ফুল অ্যাপিআই সম্পর্কে তথ্য অর্জন করে নিতে হয়। এপিআই ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে জানার জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলো সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন।
- RESTful API (JSON ও HTTP ব্যবহার করে)
- GraphQL (এডভান্সড API ম্যানেজমেন্ট)
শেষ কথা: যখন আপনি ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট শেখার মিশনে নামেন তখন একটি বিষয়ের উপরে আরেকটি বিষয় একে একে শিখে যেতে হবে। কারণ ওয়েব ডেভেলপমেন্টের বিস্তৃতি অনেক বেশি। সেক্ষেত্রে, আপনি যখন একবার শেখার চেষ্টা করবেন তখন আপনি বারবার শিখতে চাইবেন।
এবং একই সাথে আপনি ডেভেলপমেন্টের ফিল্ডে যখন প্রবেশ, করবেন তখন নিজে থেকে বুঝতে পারবেন কি কি বর্তমানে শেখা প্রয়োজন, এবং কোন কোন বিষয়ে আপনাকে আরো বেশি জোর দিতে হবে।